Uncategorized

র‌্যাবের পর পুলিশও হেফাজতে রাখতে পারেনি মোহরার মাদককারবারি হানিফকে

চট্টগ্রামের চান্দগাঁও থানার মোহরার রেললাইন কেন্দ্রিক মাদক সম্রাট হানিফের আস্তানায় অভিযান চালিয়ে ইয়াবাসহ আটকের পরও তাকে নিজেদের হেফাজতে রাখতে পারেনি পুলিশ। হানিফকে ডেরা থেকে আটকের ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই কালুরঘাট পুলিশ ফাঁড়ি থেকে ছিনিয়ে নেয় তার সহযোগিরা। এসময় পুলিশের সঙ্গে হানিফের হিজড়াবাহিনীর সংঘর্ষও হয়। এতে দুই পুলিশ সদস্য আহত ও হানিফের বোন নাজমা গুলিবিদ্ধ হয়।

শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার পর কালুরঘাট পুলিশ ফাঁড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এরআগে ২০২০ সালের ১২ অক্টোবর ইয়াবাসহ হানিফকে র‌্যাব আটক করলেও তার হিজড়া বাহিনী সড়ক অবরোধ করে তাকে ছিনিয়ে নেয়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পটুয়াখালীর মীর্জাগঞ্জের বাসিন্দা হানিফ মোহরার ৯ নম্বর ও ৮ নম্বর রেল লাইন কেন্দ্রিক ইয়াবা-মদসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করে। তার একাজে হিজড়া নামধারী বিশাল বাহিনী রয়েছে তার।

সরকারদলীয় কতিপয় নেতাদের ভাগ বাটোয়ারা দিয়ে দেদারসে মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছিল হানিফ। তার নামে মাদক-খুনসহ একাধিক মামলা থাকার পরও পুলিশের একাধিক অভিযানে সে ছিল ধরাছোঁয়ার বাইরে। পুলিশি অভিযানে তার সহযোগিরা আটক হলেও সে সব সময় ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায় রহস্যজনক কারণে।

তবে শনিবার সন্ধ্যায় ৯ নম্বর পুলের গোড়ায় হানিফের বাসা থেকে চান্দগাঁও থানার কালুরঘাট ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই রোকনুজ্জামান মাদক কারবারি হানিফ ও শরীফকে পাঁচ হাজার পিস ইয়াবাসহ আটক করে ফাঁড়িতে নিয়ে যায়। আটকের কিছুক্ষণ পরই কালুরঘাট পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা চালিয়ে হানিফ ও শরীফকে ছিনিয়ে নেয় তার সহযোগিরা। এসময় পুলিশের সঙ্গে হানিফ বাহিনীর সংঘর্ষ হলে হানিফের বোন নাজমা গুলিবিদ্ধ হন এবং দুই পুলিশ সদস্যও আহত হন। এমনকি চান্দগাঁও থানার ওসিসহ সিএমপি থেকে অতিরিক্ত দাঙ্গা পুলিশ সেখানে গেলেও হানিফকে নিজেদের হেফাজতে রাখতে পারেনি পুলিশ।

সিএমপির উপ কমিশনার (উত্তর) মোখলেসুর রহমান সিভয়েসকে বলেন, ‘হানিফ ও তার সহযোগিকে আটকের পর কালুরঘাট পুলিশ ফাঁড়িতে নেওয়া হয়। সেখানে তার সহযোগিরা হামলা চালিয়ে তাদেরকে ছিনিয়ে নেয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

এদিকে স্থানীয়রা জানান, ২০২০ সালের ১২ অক্টোবরের দিকে মৌলভী বাজারের ৯ নম্বর পোল এলাকায় মাদক ব্যবসার অভিযোগ পেয়ে হানিফকে আটক করে র‌্যাব সদস্যরা। এ খবর পেয়ে সড়ক অবরোধ করে সিনেমাটিক স্টাইলে তাকে সেখান থেকে ছাড়িয়ে নেন হিজড়াদের একটি দল। হানিফের বাবা লোকমান, ভাই ইয়াছিন ও বোন নাজমা সবাই মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত। মৌলভী বাজারের পোল বস্তিসহ মোহরা এলাকা মাদককারবার নিয়ন্ত্রণ করতে ইয়াছিন আরাফাতকে সুকৌশলে হিজড়া বানিয়েছে তার পরিবার। প্রতিদিন হিজড়া রুপ নিয়ে এলাকায় জোর করে টাকা তোলে ইয়াছিন। কেউ কিছু বললে সবার সামনে উলঙ্গ হয়ে মারধর করে। মানুষ বাধ্য হয়ে তাকে টাকা দেয়।

Binoraj

Hello, I'm Sumon Sorkar. We promote this content regularly. So tell us what kind of content you want to get. We will broadcast that content. Thank you

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button

Adblock Detected